অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লার মিরপুর হাইওয়ে ফাঁড়ির ওসি মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মিরপুর থেকে মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ হয়ে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত এই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন তিনি। তথ্য সূত্র- দৈনিক যুগান্তর।

৭-৮ জনের দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন যানবাহন থেকে টাকা আদায় করা হয়। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যানবাহনের চালকরা। তারা বলছেন, ওসি আখতারুজ্জামানকে মাসোহারা না দিলে যানবাহনের চাকা ঘোরে না; উলটো হয়রানিমূলক মামলার শিকার হতে হয় তাদের। যদিও ওসি এই চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওসির নিযুক্ত দালাল কসবার শামীম হোসেন ফাঁড়ির সামনে থেকে কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত চলাচলকারী প্রায় ১৫শ সিএনজি অটোরিকশার প্রতিটি থেকে মাসে ১৫০০ টাকা করে, ২শ ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রতিটি থেকে ১ হাজার টাকা করে আদায় করেন। শামীম ওসিকে মাসে ৪ লাখ টাকা ভাগ দেন।

শিদলাই এলাকার দালাল আমির হোসেন মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ থেকে রসুলপুর, নবীনগর, বাঙ্গরা, চাপিতলা, ফিডার রোডে চলাচলরত ৬ শতাধিক সিএনজি অটোরিকশা থেকে মাসে ১৫০০ টাকা করে মাসোহারা আদায় করেন। তাকে মাসোহারা না দিলে কোনো সিএনজি অটো মহাসড়কে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারে না। এই দালাল থেকে মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকা ভাগ নেন ওসি।
ষাটশালা এলাকার দালাল ইউসুফ মিরপুর ফাঁড়ি থেকে দেবিদ্বার এলাকার জাফরগঞ্জ পর্যন্ত চলাচলরত পিকআপ ট্রাক্টর, ড্রামট্রাক ও ইটভাটার যানবাহন থেকে মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকা আদায় করেন। এর মধ্যে মাসে ২ লাখ টাকা ওসিকে ভাগ দেন ইউসুফ।
কোম্পানীগঞ্জ ত্রিশ এলাকার দেলোয়ার সরকার মুরাদনগর থেকে কোম্পানীগঞ্জ গ্যাস পাম্পে চলাচলকারী শতাধিক সিএনজি থেকে ১৫০০ টাকা করে মাসোহারা আদায় করেন। তিনি মাসে ওসিকে ৫০ হাজার টাকা ভাগ দেন।

মিরপুর হাইওয়ে ফাঁড়ির সামনে বাদলের দোকান আরেক মিনি থানা। এখানে বসে ৩ শতাধিক সিএনজি অটো থেকে মাসোহারা আদায় করেন বাদল। এছাড়া ইকবাল ও মাসুম নামে একাধিক দালাল ওসির পক্ষ থেকে টোকেন বাণিজ্য করছেন। ওসির বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন নরসিংদী জেলার সুজন। তার মাধ্যমেই দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বাঙ্গরার সিএনজি অটোচালক ইকবাল হোসেন বলেন, দালাল আমির হোসেনকে মাসে ১৫শ টাকা চাঁদা দিয়ে সড়কে সিএনজি চালাতে হয়। অন্যথায় ওসি সাহেব মামলা দিয়ে হয়রানি করে। চাপানগরের সিএনজি অটোচালক হোসেন মিয়া বলেন, কসবার শামীমকে মাসে ১৫শ টাকা দিয়ে সড়কে গাড়ি চালাই।

পিকআপচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, মাসে ১ হাজার টাকা করে পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। দালাল ইউসুফের মাধ্যমে ওসি এই টাকা নেন।
সিএনজি অটোচালক রাসেল আহমেদ বলেন, মিরপুর থানার সামনে বাদলের দোকান আরেকটি মিনি থানা। এখানে বসে টাকার বিনিময়ে মামলা ভাঙানো (মামলা তুলে নেওয়া), পুলিশের আটক রফাদফা সবকিছু করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমি কোনো মাসোহারা এবং দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত নই। কেউ অভিযোগ করলে তা সত্য নয়। এখানে কোনো দালাল চক্র এবং টোকেন বাণিজ্য চলে না। কেউ এসবের সঙ্গে জড়িত থাকলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে কোনো হাইওয়ে পুলিশ জড়িত থাকলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মিরপুর ফাঁড়িতে এ ধরনের দালাল সিন্ডিকেট থাকলে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেব। তাছাড়া ওসি যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply